কলকাতা জানা অজানা সবকিছু

ডলার এন্ড্রোস বিষয়ক:
যে পরিমান ডলার বৈধভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে চান, সেটা মানি এক্সচেন্জে গিয়ে কিনতে হবে আপনাকে। মানি চেন্জার আপনার পাসপোর্টে সিল মেরে দেবে ঐ পরিমান ডলারের উল্লেখ করে, এটাই ডলার এনডোর্সমেন্ট। প্রতিবছর একটা নির্দিস্ট পরিমান ডলার পাসপোর্টে এনডোর্স করানো যায় বিদেশ ভ্রমনের জন্য। ক্যাশ ডলার ছাড়াও আপনি ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড আপনার পাসপোর্টে এনডোর্স করিয়ে নিতে পারেন ব্যাংক থেকে। ব্যাংক থেকেও আপনার পাসপোর্টে ক্যাশ ডলার এনডোর্স করাতে পারেন।

আগমণ বা বহির্গমণকালে কোনরূপ ঘোষণা ছাড়া মাথাপিছু বাংলাদেশী মুদ্রায় সবোর্চ্চ ৫,০০০ টাকা সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাংলাদেশী মুদ্রা পাসপোর্টে এন্ডডোর্স হয় না, মনে রাখবেন

বর্ণিত সীমার অতিরিক্ত টাকা থাকলে, বহির্গমণকালে অবশ্যই ডিপার্টিং বন্দরের যেকোন অথরাইজড ডিলার/ব্যাংক থেকে বিদেশী মুদ্রায় কনভার্ট করে পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিন, কারণ ৫০০০ টাকার অতিরিক্ত এক পয়সাও বহন করা যাবে না।

বৈদেশিক মুদ্রা সীমা
ক) আগমনকালে যে কোন অংকের বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আনতে পারবেন, এনডোর্সমেন্টের বালাই নেই। বুঝেনইতো, যত বেশি আনবেন তত বেশি দেশের লাভ (Y) তবে ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা তার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রার অধিক হলে নির্ধারিত FMJ ফরমে শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট ঘোষণা দিতে ভুলে গিয়ে বিপদে পইড়েন না । ঘোষণায় পয়সা লাগে না ।

খ) বহির্গমণকালে ‘ভ্রমণ কোটা’ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা অবশ্যই পাসপোর্টে এনডোর্স করে নিবেন। এনডোর্সমেন্ট ছাড়া সিঙ্গেল পেনিও নেয়া যাবে না। তবে Diplomats/Privileged persons/UN personnel, Govt. officials travelling on official duties- এঁদের ক্ষেত্রে এনডোর্সমেন্ট না হলেও চলবে।

ভ্রমণ কোটা
ব্যক্তিগতঃ
বার্ষিক ১২,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা
সার্কভুক্ত দেশ এবং মিয়ানমার = ৫,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা
বাংলাদেশ কর্তৃক স্বীকৃত অন্যান্য দেশ = ৭,০০০ মার্কিন ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা
একসাথে উপর্যুক্ত দু’প্রকারের দেশ ভ্রমণ করলে কত হবে? সাত আর পাঁচে যা হয় ।

চিকিৎসাজনিতঃ
ডাক্তারি কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে ১০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। তার অতিরিক্ত দরকার হলে বিনা-চিকিৎসায় মরার রিস্ক নেয়ার দরকার নেই। যেকোন অথরাইজড ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাজগপত্র দেখালেই বেঁচে যাবেন। প্রয়োজন সাপেক্ষে অতিরিক্ত মুদ্রার অনুমোদন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাঁরাই নিবে দিবেন।

ভিসা:
———————–
** ইন্ডিয়ার ভিসা পাবার নিয়ম, কিভাবে ইন্ডিয়ার ভিসা পাবো, Indian Visa from Bangladesh বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

এক্সচেঞ্জ/রেট বিষয়ক:
———————–
১। কলকাতায় ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট কোথায় ভাল পাওয়া যায়?
উত্তর: বাসে গেলে বর্ডার থেকে করতে পারেন, তাছাড়া কলকাতার নিউ মার্কেট, মার্কিউ ষ্ট্রিট, পার্ক ষ্ট্রিট একটু খুঁজে, দরদাম করে করতে পারেন ভালো ভাল রেট পাবেন।
২। ডলারের রেট বেশি না টাকার রেট বেশি, বাংলা টাকা নিতে পারবো নাকি পারবো না?
উত্তর: ডলার নেয়া বৈধ।
৩। বাংলাদেশী টাকা কত পর্যন্ত নেয়া যায়? যদি নেয়া যায় তাহলে বর্ডারে ধরবে কি ধরবে না? ধরলে ঘুষ দিতে হবে না সব টাকা বাজেয়াপ্ত হবে?
উত্তর: আগমণ বা বহির্গমণকালে কোনরূপ ঘোষণা ছাড়া মাথাপিছু বাংলাদেশী মুদ্রায় সবোর্চ্চ ৫,০০০ টাকা সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাংলাদেশী মুদ্রা পাসপোর্টে এন্ডডোর্স হয় না মনে রাখবেন।

Dhaka থেকে কিভাবে যাবেন কলকাতায়?
ভারতে যাবার জন্য বাংলাদেশিদের হাতে আছে তিনরকমের উপায়, একটা হল স্থলপথে বাস, স্থলপথে ট্রেন ও আকাশপথে বিমান। ইদানীংকালে ভারত-বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে, তাই যাওয়া আসাও হয়েছে অনেক সহজ।

মৈত্রী এক্সপ্রেসের খুঁটিনাটি জেনে নিন এখান থেকে।

 

বাস বা বিমানে যেতে চাইলে এখানে দেখুন।

কলকাতা এলে কোথায় থাকবেনঃ
যাই হোক ভিসা টিকিট কেটে তো চলে এলেন এবার দরকার হোটেলের তথ্য। কোথায় থাকবেন এটি জানার সব থেকে ভালো উপায় হলো যদি একা একা বা দলে ভ্রমণ করেন তবে শুরুতেই চলে আসুন ধর্মতলা নিউমার্কেট এলাকা, মারকুইস স্ট্রিট, রিপন স্ট্রিট এখানে অনেক হোটেল রয়েছে। এবার দরদাম করে উঠে পড়ুন। আর ফ্যামিলী নিয়ে আসলে আগে থেকে বুক করে রাখাই ভালো। সেই ক্ষেত্রে Trivago, TripAdvisor, Booking, OyoRoom বা makemytrip এ গিয়ে বাজেট ও গেস্ট রিভিউ অনুযায়ী বেছে নিয়ে বুক করে নিন হোটেল। হোটেল নেয়ার সময় অবশ্যই রুম, বিছানা, বাথরুম, পানির লাইন, এসি, টিভির কানেকশন সব নিজে দেখে নিবেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি এসব না দেখে নিলে পরে ভোগান্তিতে পড়বেন। এখানকার হোটেলর সার্ভিস সন্তোষজনক নয়।

কি কি দেখবেন কলকাতায়ঃ
সবই যখন হলো এবার বেড়িয়ে পড়ুন জাদুর শহর কলকাতা ঘুরে দেখতে। ট্রাম, ক্যাব, মেট্রো, ওলা ক্যাব বা উবার যেকোন উপায় খুঁজে শুরু করুন ঘুরে বেড়ানো। তবে কি দেখবেন তা যদি আগে থেকে আইডিয়া থাকে তবে ভালো হয়। কি কি দেখবেন কলকাতা ভ্রমণে এখানে ক্লিক করুন। একবার হলেও দেখবেন এই স্থানগুলো অবশ্যই।

মেট্রোরেলের রুট ও বিস্তারিতঃ
কলকাতায় মেট্রোরেল বেশ জনপ্রিয় ও সস্তা। প্রায় সারা কলকাতা জুড়েই চলে এই রেল। খুব সহজেই তথ্য জানা থাকলে আপনিও চেপে বসতে পারেন এই রেলে আর সময় ও অর্থ দুইই বাঁচাতে পারেন। কলকাতার মেট্রো রেলের রুট, ভাড়া, স্টেশনের আসে পাশে কি কি দর্শনীয় স্থান আছে ও আরো বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এই লিংকে। 

কি খাবেন কলকাতায়, বা কি আসলেই খাওয়া উচিত, বা মিস করা উচিত না:
কলকাতায় এলেন আর খাবারের স্বাদ নিলেন না তা কি করে হয়? এই একটা শহরে এতো এতো পদের খাবার পাওয়া যায় যে আপনি গোটা ১টা বা ২টা দিন ধরে খেয়েও শেষ করতে পারবেন না। তবুও একটা শহরের সব কিছুতো আর জিভে জল আনে না, কিছু কিছু সিগনেচার আইটেম থাকে যা না খেলেই নয়। এখানে তেমন কিছু খাবার ও লোকেশন ও ছবি দেয়া হলো যা একবার হলেও চেখে দেখবেন।

 


Kolkata New Market

কলকাতায় কোথায় কি কিনতে পাবেন??

* আমাদের দেশের মতো কলকাতায় আছে একটি নিউ মার্কেট। অনেকেই জানেন সেটা। যারা জানেন না তারা কেনাকাটা না করতে চাইলেও ঘুরে আসতে পারেন। বেশ ঘিঞ্জি, বড় এলাকা জুড়ে এই মার্কেট। অবশ্যই দরদাম করে কেনাকাটা করবেন। নানান স্টাইলের ফতুয়া, টপস, জুতা থেকে শুরু করে সবই পাবেন এখানে।

* তাঁতের শাড়ি, সিল্কসহ ট্রাডিশনাল জিনিসগুলো পাবেন গড়িয়াহাটের মার্কেটে।

* উত্তর কলকাতায় পাবেন সস্তায় রকমারি জিনিসপত্র। জামাকাপড়ের বিশাল আয়োজন দেখতে চলে যান হাতিবাগান মার্কেটে।

* দক্ষিণাপণ মার্কেটে যাবেন হাতের কাজের পোশাক কিনতে হলে। ঘর সাজানোর জনিসপত্র, ট্রেন্ডি জাংক গহনা এসবের জন্যও খ্যাতি আছে এই জায়গার।

* শ্রীরাম আর্কেডে পাবেন ঝলমলে আধুনিক পোশাক। পার্টি, বিয়ে এসব কিছুর জন্য উপযোগি শাড়ি, লেহেঙ্গার সম্ভার আছে এখানে।

* ট্রেজার আইল্যান্ডে চলে যান কম বাজেটে চমৎকার সব পোশাক পেতে। হাতের কাজ থেকে শুরু করে ঝলমলে রকমারি আয়োজন পাবেন এখানে।

* সিম্পার্ক মলে পাবেন নারীদের ভালো মানের ব্যাগ আর জুতো। ব্রান্ডের কপি পণ্যগুলো পাবেন এখানে।

* পোশাকের জন্য আরও যেতে পারেন থিয়েটার রোডের ইমামি মার্কেটে। প্রচুর পোশাক, ভালো মানের জুতো এবং গহনার বিপুল সম্ভার পাবেন এখানে।

* মেট্রো প্লাজাও শপিং এর জন্য খ্যাত। হো চি মিন সরণীতে অবস্থিত এই মেট্রো প্লাজা। দেশি-বিদেশি জামা, জুতো, গয়না পাবেন না এমন জিনিস নেই এখানে। ৩য় তলায় আছে অসংখ্য জুতার দোকান।

* নিউ বি কে মার্কেটে চলে যান থাই গয়নার খোঁজে।

* এরপরও কেনাকাটা করবেন? হতাশ হবার কিছু নেই। চলে যান শেক্সপিয়ার সরণীতে। কলকাতার প্রথম এসি মার্কেট এটি।

* এছাড়া পার্ক স্ট্রিটে আছে আরও অনেক শপিং মল। যেতে পারেন সেখানেও।

আরো বিস্তারিত এখানে

 

কলকাতা বা ইন্ডিয়া ভ্রমণে কিছু দরকারী টিপসঃ
১. সঠিক কাগজপত্র জমা দিয়ে ভিসা নিন ।
২. ঢাকা থেকে রাতের বাসে কলকাতা যাওয়া ভাল ।
৩. কলকাতা নেমে ফেয়ারলি প্লেস থেকে টিকেট কাটবেন ফরেনার (বিদেশীদের ) কোটায় । একটা ফর্ম পূরণ করতে হবে তাই পাসপোর্ট নিয়ে যেতে হবে ।
৪. পাসপোর্ট, ভিসার পাতা সহ শেষ ফটোকপি করে নিন কমপক্ষে ৩ কপি । এছাড়া যত রকমের কাগ আছে তার ফটোকপিও নিন । কাগজ গুলো আলাদা জায়গায় রাখুন ।
৫. ভুলেও রুপি নিবেন না । এটা অবৈধ । ডলার নিবেন ও তা অবশ্যই বর্ডার থেকে ভাঙ্গানোর চেষ্টা করবেন । বর্ডারে টাকা বেশি দেয় । ডলার ভাঙ্গানোর পর একটা রশিদ দিবে তা সযত্নে রাখুন অনেক সময় কাষ্টমের অফিসার গুলো দেখতে চায় । (পারলে ৫০০/- আর ১০০/- টাকার নোট নিবেন । ১০০০/- টাকার নোট না নেয়া ভাল ।)
৬. ভেত বাঙ্গালী হবেন না । অনেক মজাদার খাবার পাওয়া যায় ভারতে সব খাবারের স্বাদ গ্রহন করার চেষ্টা করবেন ।
৭. যা কিনবেন ভাল করে দরদাম করে কিনবেন ।
৮. সিম– পাসপোর্টের ফটোকপি আর এক কপি ছবি দিয়ে খুব সহজে কেনা যায় সিম । একটা ইউনিনর আর একটা এয়ারটেল সিম কিনবেন । এয়ারটেল দিয়ে ১.৯৯টাকায় বাংলাদেশে কথা বলার প্যাকেজ চালু করে দিতে বলবেন দোকানদারকে । আর ইউনিনর দিয়ে লোকার কল করুন । সিম ১০০-১৫০ রুপি ।
৯. কোথাও বাংলাদেশী পরিচয় দেয়ার দরকার নেই । যে কোন প্রয়োজনে অবশ্যই পুলিশের সহযোগীতা নিন । সাথে পাসপোর্ট ভিসার পাতা সহ দিতে পারেন না হলে সাথে রাখুন ।
১০. ট্রেনে কম টাকায় খাবার পাওয়া যায় তা খাবেন । বিভিন্ন ষ্ট্রেশনেও কাবারের স্বাদ বদল করবেন । রাম পেয়ারি চা পান করবেন অবশ্যই ।
১১. বম্বে ( মুম্বাইয়ে ) কম টাকার হোটেল দিতে চায় না বাংলাদেশীদের । আর মুম্বাই পুলিশও বাংলাদেশীদের নেতিবাচক চোখে দেখে ।
১২. টাকা সব সময় আলাদা আলাদা জায়গায় রাখবেন । এক সাথে রাখবেন না ।
১৩. অনেক সময় বাংলাদেশীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের মুখোমুখি হতে হয় । সব সময় ঠান্ডা মাথায় জবাব দিন ।
১৪. ট্রেনে ধূমপান নিষেধ তাই ভুলেওসেই কাজটি করবেন না ।
১৫. পানির বোতল রাখুন সাথে ।
১৬. আপনারা যারা সিম কিনবেন নাম্বার গুলো একটি কাগজে লিখে ফটোকপি ( জেরক্স ভারতীয়দের ভাষায় ) করবেন । সবার কাছে তা দিয়ে দিবেন ।
১৭. দিল্লির লাল কেল্লার লাইট এন্ড সাউন্ড শো হয় সন্ধ্যায় তা মিস করবেন না । হিন্দিটা দেখবেন টিকেটের দাম কম পাবেন । ভারতীয় জাতীয় সংগীত হয় সেখানে । জাতীয় সংগীত শুরু হবার সাথে সাথে উঠে দাড়াবেন । আর্মি এরিয়া তাই কথা কম বলবেন । না বললে ভাল । দলবদ্ধ ভাবে সেখানে না যাওয়াটা আরো ভাল । শো শেস হলে বাইরে এস এক সাথে খাবেন ।
১৮. পাল্লা দিয়ে বিরিয়ানী মাপে দিল্লি জামে মসজিদের সাথের গতিতে থাকা দোকান গুলোতে । টেষ্ট করতে পারেন । কাবাব খাবেন অবশ্যই ।
১৯. দিল্লির ষ্টেশন বিব…শাল বড় তাই যদি সেখান থেকে ট্রেনে উঠেন তাহলে কিছুটা সময় আগে যাবেন ।
২০. ভারতে কিন্তু সালাদের আলাদা দাম রাখে । তরকারী একবারই দেয় দ্বিতীয় বার নিলে আলাদা দাম নেয় । ব্রিটানিয়া কেক খেতে পারেন দাম কম কিন্তু স্বাদ ভাল ।
২১. ব্যাগ পিঠে না নিয়ে বুকে নিবেন । কারন ব্যাগের পেছন কেটে অনেক সময় অনেক কিছু গায়েব হয় ।
২২. বাস কাউন্টারে বাংলাদেশী টাকা বর্ডারে রেখে যেতে পারেন ।
২৩ গড়িয়ার হাটে সস্তায় কেনাকাটা করতে পারেন । বাজার কলকাতা নামে একটি বড় দোকান আছে সেখানে যেতে পারেন । ফিক্সড প্রাইজ ।
২৪. ট্রেনে রির্জাভেশন অবশ্যই করে নিবেন না হলে রাতের ঘুম হারাম ।

 

Source | Glad2bawoman
Source | Mid-day
Source | TelegraphIndia
Source | Cookingwithsapna
Source | TimesofIndia
Source | Vahrehvah
Source | Wikipedia
Source | Maamatimanush
Source | Mellownspicy
Source | Anitamokashi
Source | Google
Source | Wiki
Source | Other Blog Site

Related posts

Leave a Comment